https://www.verbling.com/find-teachers?price%5B%5D=5&price%5B%5D=80&sort=magic&language=bn

« June 2007 | Main | August 2007 »

SASLI 2nd Year - Tanjina Shabu Journal 5 “জীবন একটা রোলার কোস্টার”

জীবনের অনেকখানি পথ পাড়ি দিয়ে আজ মনে পড়ছে অনেক কথা। জীবন মানে কি? এই প্রশ্নটি আমার কাছে একটু জটিল । কারণ, জীবন সম্পর্কে আমি কখনো অতশত ভেবে দেখিনি। হয়তবা ভাবতে গিয়েও ভাবি নি, সবসময় শুধু ক্ষণিকের চিন্তায় বিভোর ছিলাম। জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করলেও ভেবেছি যে, এখনই যদি জীবন নিয়ে ভাবা শুরু করি তাহলে বুড়ো হয়ে গেলে কি করব? তখন তো কোনকিছু নিয়ে ভাবার বিষয় থাকবে না, তখন সময় কাটাব কি করে ?? কি অদ্ভূত আমার চিন্তা!! আমার জীবনের অর্থ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমভাবে বদলিয়েছে। কিন্তু আমার জীবনের লক্ষ্য ছোটবেলা থেকে একরকম ছিলো। আমার এই এক টুকরো জীবনে অসংখ্য অভিজ্ঞতা আছে যেগুলো প্রতিনিয়ত আমার জীবনের লক্ষ্যকে আরো শক্ত করে তুলেছে। আমি চারদিকের পরিবেশকে যতই বদলাতে দেখেছি ততই নতুন করে কিছু শিখেছি।                     

এই জীবনে আমি জন্ম এবং মৃতু্্যকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। একটি নবজাতক শিশুকে জন্মের পর মৃতু্্যর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছি। একটি আনন্দময় পরিবেশকে শোকের আধাঁরে ডুবে যেতে দেখেছি । নতুন অপরিচিত একজন মানুষকে আপন করে পরিবারে গ্রহণ করতে দেখেছি, আবার একই পরিবারে নিজের আপন মানুষকে পর হয়ে বিদায় নিতে দেখেছি। এসব অভিজ্ঞতা আমার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে বটে কিন্তু জীবনের আসল মানে কি তা আমি এখনো বুঝে উঠতে পারি নি। আমার মনে হয়, জীবন সম্পর্কে এখনো আমার ধারণা নেই। আমি মনে করি বাইরের পৃথিবীটাকে এখনো আমি ভালো করে জানি না, হয়তবা এটা আমার জীবনের ব্যর্থতা, কিন্তু তারপরেও আমার মনে হয় বিধাতা যা করেন ভালোর জন্য করেন। কে জানে হয়তবা আমি এখন যতটুকু জানি তার থেকে বেশী জানলে কোন বিপদ হত?

আমি ভাবি যে, পৃথিবীতে প্রতে্যকটি মানুষের কাছে জীবনের অর্থ আলাদা। আমার জীবনের অর্থ যেমন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বদলায়, তেমনি আমার মনে হয় প্রতে্যকটি মানুষ তার জীবনকে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন অর্থে খুঁজে পায়। কোন কোন মানুষের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার নামই জীবন। আবার কেউ কেউ শুধু বাঁচাটাকে জীবনের অর্থ মনে করে না, তারা জীবনে সুখ খুঁজে পাওয়াটাকে মনে করে জীবন। কিছু মানুষ মনে করেন অনেক টাকা- পয়সা এবং সম্পত্তির মালিক হতে পারলেই জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
গত তিন দিন ধরে ভাবতে ভাবতে জীবনের মানে সম্পর্কে এখন আমার ধারণা একটু হলেও বেড়েছে। আমি জীবনের মানে সম্পর্কে একটি পদ্য লিখলাম, যদিও আমি পেশাদার কবি নই কিন্তু চেষ্টা করে দেখছি !

একটি সুন্দর সকালের শুরু মানে জীবন
পাখির কলরবে যেমন সকালের বাতাস মুখরিত থাকে ,
তেমনি জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত হাসি- কান্নায় ভরে থাকে।

প্রতিটি মুহুর্তটিকে আনন্দের সাথে কাটানোর মানে জীবন
জীবন তো মানুষের একটাই,
এক জনমে জীবনকে না ভোগ করলে
কি করে জীবনের সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে?

আত্নসন্তুষ্টি লাভ করার মানে জীবন
র্মকে ভালোবাসার মানেই জীবন
স্রষ্টাকে ভালোবেসে প্রার্থনা করার মাঝেই জীবন।

সবরকমের যন্ত্রণাকে লাঘব করার মানে জীবন
সব দুঃখ কষ্টকে জয় করে
প্রতিটি বাধা- বিপত্তি পেরিয়ে বেচেঁ থাকার মাঝেই জীবন।

স্বাধীনতাভাবে বাচাঁই জীবন
নিজের ইচ্ছায় চলা এবং
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁনোর মাঝেই জীবন।

আপনজনকে ভালোবাসাই জীবন
মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করা,
তাঁদের মনের আশাকে পূরণ করা এবং
ভাই- বোন, আত্মীয়- স্বজনদের ভালোবেসে
ভালোবাসা অর্জন করাই জীবনের সবকিছু।

একে অপরকে সাহায্য করার মানে জীবন
হিংসা
, স্বার্থপরতা, অহংকার ভুলে গিয়ে
ঘৃণার
বদলে ভালোবাসাই জীবনের সবকিছু।

খাওয়া- দাওয়া এবং আরাম করার মানে জীবন
পোলাও, কোরমা, মিষ্টি খেয়ে
ছুটির দিনে আরাম করে ঘুমানো জীবন।

আবেগকে ধরে রাখতে পারা জীবন
কাউকে ভালোবেসে পাওয়ার আশা করা এবং 
শাহরুখ খান মানে জীবন।

জীবনের মানে খোঁজাটাই জীবন।

অনেক হল জীবন নিয়ে কথা-টথা। আর মাথায় কিছু ধরছে না। গত তিন দিন ধরে জীবনের মানে চিন্তা করতে করতে আমার চোখের নিচে এখন কাল দাগ হয়ে গেছে, হয়তবা এটাই জীবন??


SASLI 2nd Year - Brian Heilman Journal 5 - জীবনের মানে

বেশিরভাগ অামার মত জীবনের মানের বিষয়ে খুবই দুঃখবাদি হবে, কিন্তু অাজকে অামি সুখে অাছি। কী অাশ্চর্য অবস্থা! অামার জীবনে, সুখ বটে অদ্ভুত অতিথি। অামি অার দুঃখবাদের খুব জোরাল বন্ধুত্ব অাছে, কিন্তু অামার জন‍্য সুখ ঠিক বন্ধু নয় বলে, এখন অামি জানি না কি কি করব! এ বাবা! কি অপরিচিত অাবেগ!

অামি সুখে অাছি কেন? তুমি কি অামাকে এটা জিজ্ঞেস করতে চাও? অামিও তোমাকে এ প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করতে চাই। অামাদের কখনো সুখি হয় কেন? অানন্দ, দুঃখ, ভয়, ভালবাসা - এসব কোথায় থাকে? কন জায়গা পৃথিবীতের থেকে এসব এসে যায়? অনেক অনেক বড় প্রশ্ন অাছে, তাই না?

জীবন বটে জটিল অভিজ্ঞতা, অার প্রতিদিন নতুন ঝগড়া মনের অভিমানের সঙ্গে। কিন্তু অাজকে অামার মনে হয় যে সুখ এত জটিল নয়, এত কঠিন নয়। সুখ চিনতে পারা সবচেয়ে কঠিন ব‍্যপার। অামরা সুখ করতে হবে না - অামরা শুধু সুখ দেখতে পারতে হবে। সুখ অার সব অন‍্য অাবেগ সচসময় অামাদের কাছে অাছে, কিন্তু বেশিরভাগ অামরা এগুলো দেখতে পারি না। অামরা সবসময় এত স্বার্থপর - অামাদের চোখ শুধু অামাদের নিজের ব‍্যপারগুলো বা উদ্ধেগগুলো দেখে। যখন পুরোনো সমস‍্যা শেস করে, তখোন অামরা নতুন সমস‍্যা হসৃষ্টি করি।

অামরা কি জানি না যে হঁাতা, লেখাপড়া, বসা, অার সবকিছু সুখ হতে পারে? যে অামাদের বন্ধুরা সুন্দর উপহার? প্রতিদিন নতুন অভিজ্ঞতা, প্রতিঘন্টা নতুন পাঠ, প্রতিমিনিট নতুন সুখ। সত‍্য! অামি, দুঃখবাদি রাজা, ঠাট্টা করছি না! অামি অাজকে দেখতে পারি যে অামান মনের সমস‍্যা দেখতে অার উদ্ধিগ্ন করতে ভালবাসে। অার অনেক লোক অামার মত। কিন্তু কেন?

সব লোক প্রতিদিন এ কিছুগুলো (নিচে দেখো) করতে পারে। অার যদি করে, তাহলে তার সুখি হবে:

- বন্ধুর সঙ্গে গল্প করা
- রাস্তায় নাচ-গান করা
- হ্রদে লাফিয়ে দেওয়া
- তার প্রিয় কথা লেখাপড়া
- কবিতা লেখা
- ঘুমোনো
- বাচ্চার সঙ্গে খেলা
- সুন্দর ছেলে/মেয়ের সঙ্গে কথা বলা

অার লাখ লাখ কিছু। এসব শুধু অামার প্রথম দুই মিনিটের ধারনা। অার এসব খুব কঠিন নয়। কেন ভয় পাবে? সুখিজীবন একদম সরল-সহজ।

অামি অতু‍্যক্তি করতে চাই না। অামিও জানি যে প্রতিমিনিট একদম সুখি হবে না, হতে পারবে না। কিন্তু এটা অামার বড় ধারনা: যদি অামরা সুখের জন‍্য দেখি, তাহলে অামরা জানতে পারবে যে অামাদের চিনটা করার চেয়ে, জীবনের বেশি সুখ অাছে। যে কি অামরা দেখতে চাই, সে অামরা দেখব। তাই, সুখের জন‍্য দেখবে না কেন? ওটা জীবনের মানে।

অামার প্রথম পানীরি বাংলা Motivational কবিতা:

সুখিজীবন

বাচ্চারবেলার খুশির জন‍্য অামার মন তো কেমন করে;
কিন্তু অামাদেরকে অন‍্য কিছু না তো বলতে হবে।

যখন শুনি, তখন শিখব: প্রতিবন্ধু বটে গুরু;
যদি চাই, হতে পারব: অাজকে নতুন জীবন সুরু।

পৃথিবীতা বড়ো জায়গা, কিন্তু অাবেগ ছোটো ছোটো;
সর্বশ্রেষ্ঠ অনুভূতির অভিজ্ঞতা কত কত।

রাগ অার কষ্ট ফেলে দাও, সুখ অার খুশি রাখো হাতে;
অন‍্য কিছু দেখব কেন, শুধু সুখি দিন অার রাতে!

I’ll bring a printed copy to class again.  Thanks for reading.


জীবনের মানে কি? SASLI 2007

কেউকে এবার সুনলাম যে আপনি একটা পর্যাস চাইলে নতুন মন বাড়ে আর নীরবে করুন যদি আপনি পারেন।

অন্যবার আমি একটা গির্জাতে গেল। এগির্জা প্রায় কখনো যাই না। কিন্তু ওদিন আমি গেল। বড় পাদ্রি ধর্মোপদেশ দিল আর এটা ওখানে শেষ ধর্মোপদেশ দিল। সে অন্য গির্জা গেল।

সে বলল যে জীবন একটা খালি গোরগুলোর সারি। প্রায় যখন সমুত্থানের সম্বন্ধে ভাবছে তখন মারা যাওয়ার পরে ভাবছে খ্রিস্টানরা। কিন্তু এপাদ্রি সমুত্থানের সম্পর্কে চিন্তা করল যে এটা আনেকবার জীবনে হয়। আমার মনে হয় যে প্রতিবছর, হয়ত প্রতিদিন বা অনুক্ষণ সমুত্থান হতে পারে।

কিন্তু প্রায় লোকের এত বদল ভালো লাগে না। এজীবন একুনি স্নেহ করছে। তারা অন্য জীবন চায় না আর তারাও অন্য লোক বদল করতে চায় না। সেযন্য প্রথম কথাতে ও বলল যে ওদের নীরবে করুন যদি আপনি পারেন।

আমার মনে হয় যে আমার লেখা হয়ত আপনাকে একটু আদ্ভুত লাগবে। তাই এখন আমি ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ-এর চিন্তা আর আমার বিশ্বাস তুলনা করব। প্রথম আমার কথা বলা উচিত যে আমি জানি না কী ভারততে ঠিক ধর্মচর্চা কিন্তু এচিন্তাগুলো এ তর্ক সুরু করতে পারে।

যখন বাঙ্গালি লোক ধর্মের কথা বলে ধর্ম মানে কি? হয়ত ধুর্গা পুজা মনে পড়ে। আমার যন্য যেক্ষন ধুর্গা পুজা হয় সেক্ষন আমাদেরকে মনে করে যে সবাই প্রথিবিতে একটু ছোট অংশের বড় পরিবার। কলা বউর মত আমাদের আদ্ভুত বোধ হয় কিন্তু যদিও আমাদের আনেকরকম জীবন থাকে তবেও আমাদের পরিবারতে থাকে।

আমার ধর্মের একা। আমার যন্য দেব আমাদের ভেতরে থাকেন। দেব নিঁজেকে আমাদের শাখান। যেটা সুধু আমাদের করতে হয় সেটা দেবকে শুনি। যখন আমারদের শুনি না আর সুধু নিজে ভাবি তখন সমস্যা হয়।

যদি প্রতি লোকজন সমাজের অংশ আর দেব তাদের নিয়ে বলতে পারে তবে এচিন্তা আমাদের অন্য লোকের কথা উপায়টা ভাবে। এ মনে যে কখনো কখনো দেব শ্ত্রু নিয়ে আমাদেরকে কথা বলে। যদি দেব অন্য লোক নিয়ে বলতে পারে, তবে আমাদের অন্য লোক মারা ফেলতে হবে না। আমাদের মনে করতে হয় যে দেব চুপ করেন না আর প্রায় যে তিনি আমাদেরকে চান সেটা কঠিন জানতে পারে।

আমার এবার পড়লাম যে আমাদের মুখমুখি তালায় এখানে দেব থাকে। দেবকে ভালোবাশি আর অন্য লোক নিজের মত ভালোবাশি। এটা এত সরল তবে এত জটিল যখন জীবনে করতে হবে। আমার জন্য মোক্ষ হয় যখন আমাদের জীবন আর দেবের মন একা হবে।

অর্থ পাওয়ার দরকার কেন? গারিব হলে ধর্ম মনে পড়ে না। যখন কেরো খাবার নেই তখন সুধু খাবার ভাবতে পারে। কিন্তু যখন অনেক টাকা করতে হয় তখন প্রায় সুধ টাকা ভাবে পারে। আমার জন্য আমরা জানতে হবে কী দরকার আর কী সুধু জিনিস চায়। কিন্তু অর্থ? এটা আরো সমস্যা আনবে।

শেষে আমরা কামের কথা ভাবতে পারে। আমার মনে হয় যে কাম অর্থের মত। লোকের চাওয়া আছে আর সবাই ভালোবাসা হতে চায় আর ভালোবাসতে হয়। এপথ ইস দুই ধবংস হবে আর মোক্ষ হবে। কোথায় কোন পথ যাবে, কেউ জানতে পারে?


SASLI 2nd Year - Brian Heilman Journal 4 - চারুু

সত‍্যজিৎ রায় সবসময় বলতেন যে ’চারুলতা’ তাঁর প্রিয় সিনেমা। উনিও বলতেন যে উনি কখনো সিনেমাটা বদলে হতে চেয়েছিলেন না। অামার মনেও হয় যে ’চারুলতা’ খুব সুন্দর সিনেমা। হয়তো অামার প্রিয় সত‍্যজিৎের সব সিনেমার। কিন্তু ক্লাসে অামার অনেক সমস‍্যা ছিল কখন অামরা চারুলতার কথা বললাম। অামার অাবেগ চারু চরিত্রর বিষয়ে অার কারোর অাবেগ খুব অালাদা ছিল। এসব অামাকে খুব বিস্ময় করলাম অার ও দিনের পরে অামি এ কথার বিষয়ে অারো ভাবলাম। সব লোক বটে একই অাবেগ বা মত হওয়া উচিত না। যখন সব লোক অালাদা মত দিয়ে দেয়, তখন সবচেয়ে ভাল শেখা হবে। এটা অামি বটে বিশ্বাস করি। কিন্তু ও দিন অামি প্রথমবার উপলব্ধি করলাম যে অালাদা সংস্কৃতিতে অালাদা রকমের মত হবে। অামি এখন উপলব্ধি করি যে প্রতি সংস্কৃতির তার নিজের assumptions হবে কখন লোক নতুন সিনেমা/বই/কবিতা/অনো কিছু দেখা/পড়া হবে। প্রতি সংস্কৃতির নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এ assumptionগুলো হবে।

অামি এটা শিখলাম চারুলতার দুটো বিষয় থেকে। প্রথম তার গল্প অার দ্বিতীয় তার সময়। ও দিন ক্লাসে অামি শিখলাম যে এ ছবিটা রবিন্দ্রনাথের গল্প থেকে ছিল। সত‍্যজিৎের সিনেমা অার রবিন্দ্রনাথের গল্পের মধে‍্য একটু গুরুত্বপুর্ন টফাত অাছে, কিন্তু বাঙালী দর্শক রবিন্দ্রনাথের গল্প বটে জানবেন। অার তখন বাঙালী দর্শক এ ছবিটা দেখেন, তখন রবিন্দ্রনাথের গল্প তাঁদের মনে পড়বে। অনো দর্শক রবিন্দ্রনাথের কথা বটে ভাববে না। রবিন্দ্রনাথের গল্প, রামায়ানের গল্প, মাহাভারতের গল্প, অার অনো কিছু খুবই গুরুত্বপুর্ন বাঙালী লোকের জন‍্য। কিন্তু বেশিরভাগ অনো লোক এ গল্পোগুলো জানে না। অামি একটু রবিন্দ্রনাথের অার এপিক-এর গল্প জানি, কিন্তু সব না! এ রবিন্দ্রনাথ গল্প অামি জানতাম না।

ক্লাসের পরে, অামি অামেরিকার গল্পের কথা ভাবলাম। প্রথমবার, অামি উপলব্ধি করতাম যে বাঙালী লোক হয়তো খ্রিস্টান গল্প, অামেরিকান ইতিহাসের গল্প, অার অনো কিছু জানবে না। তাই, বাঙালী লোক অনেক প্রতিক, ঠাট্টা, অার গল্প বুঝতে পারবে না অামাদের সিনেমা/বই/কবিতায়। এ সহজ কথা, অামি জানি, কিন্তু গুরুত্বপুর্নই। যদিও অামরা একজন-অারএকজন বুঝতে চাই, তবুও পারব না কারণ অামার অনেক অালাদা সংস্কৃতির গল্প অাছে।

দ্বিতীয়, চারুলতার সময় অামার জন‍্য গুরুত্বপুর্ন ছিল। যদিও রবিন্দ্রনাথের গল্প ঊনিশ শতাব্দীতের বিষয়ে ছিল, তবুও সিনেমাটা প্রথমবার দেখিয়েছিল ১৯৬৪তে। অার সত‍্যজিৎ তার নিজের দর্শকের পক্ষে সিনেমা করল, তার নিজের সময়ে। অামেরিকাতে, অামাদের সংস্কৃতি অনেক বড়ো বদলে হচ্চিল ১৯৬০sতে। অামাদের civil rights movement, feminist movement, ভিয়েটনামের লড়াই, অার অনো কিছু সংস্কৃতিতে অনেক বদল হয়েছিল। যখন একজন অামেরিকান ১৯৬০s-এর সিনেমা দেখে, তখন সে সবসময় এ কথাগুলোর ভাববে: বদল, প্রতিবাদ, মহিলা অার minorities’ নতুন সক্তি, অার অরো কিছু। বাঙালী লোক বটে অালাদা কিছু কথা ভাববে যখন ’চারুলতা’ দেখে।

এটা অামার বড়ো ধারণা: যখন একজন লোক সিনেমা দেখে বা বই পড়ে, তখন সে তার নিজের সংস্কৃতির গল্প অার ইতিহাস মনে পড়ব। তাই, যখন অামি প্রথম অার দ্বিতীয়বার ’চারুলতা’ দেখলাম, অামি একটু অামেরিকার গল্প অার ইতিহাস ব‍্যাবহার করলাম। এ অভিজ্ঞতার পরে, অামি এসব ভুলব, অার বেশিরভাগ বাঙালী গল্প অার ইতিহাস মনে রাখব। অামার জন‍্য বাঙালী গল্প অার ইতিহাস খুব বিশেষ, তাই অামার সমস‍্যা হবে না।

তোমরা কি ভাবো? যখন একজন লোক নতুন ভাষা শিখে, তখন তার কি ভাষাটার গল্প অার ইতিহাস শেখা দরকার? তার কি তার নিজের গল্প অার ইতিহাস ভোলা দরকার? সবসময়, বেশিরভাগ, বা কখনো নয়?

সংস্কৃতি শুধু ভাষা নয়। অার ভাষা শুধু সব্দ নয়। এসব খুবই কঠিন বা‍্যপার, কিন্তু এ সমস‍্যাগুলো না থাকতে, অামার মজাও থাকবে না!


SASLI 2nd Year: Journal 4 Tanjina: ‘চারুলতা এবং নিঃসঙ্গতা’

এই পৃথিবীতে বিধাতার সকল সৃষ্টির মধে্য অন্যতম সৃষ্টি হলো মানব এবং মানবীমানব এবং মানবী দুই প্রজাতির মানুষ, কিন্তু তারপরেও এদের মাঝে অনেক কিছুই এক রকমশারিরীক গঠন এক রকম না হলেও, পুরুষ এবং নারী সবার আবেগ আছেআবেগ কে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাচারুলতা ছবিটিতে চারু চরিত্রটি স্পষ্টভাবে মহিলাদের আবেগকে ফুটিয়ে তুলেছে চারুলতা ছবিটিতে আমার চারু চরিত্রটিকে সবচেয়ে বেশি ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছেছবিটি আমি যতবার দেখেছি ততবার চারুকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পেয়েছিচারু একজন নারীর কত ধরনের রূপ হতে পারে তা তুলে ধরেছে। 

চারু দেখতে খুব সুন্দরী একজন মহিলাশারীরিক সৌন্দর্ত ছাড়াও একজন নারীর অন্য বৈশিষ্ট্য থাকে, আর তা হ্ল তার মন চারুর শারীরিক সৌন্দর্ত সহজেই বুঝা যায় কিন্তু তার মনের আবেগকে বুঝা অনেক কঠিনচারুর চোখগুলো টানা টানা এবং বড় সুন্দর ছিলোকিন্তু সতি্য বলতে চারুর চোখগুলো সবচেয়ে রহস্যময় ছিলো, তার চোখের পেছনে অনেক আবেগ লুকোনো ছিলোচারুর চোখ দেখে দর্শকরা তার মনের আবেগ সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছে যেমনঃ যখন চারু খুশি হত তার চোখদুটি আনন্দে চকমক করত, যখন সে কারোর উপর রেগে যেত তার চোখ দুটি বড় হয়ে যেত, আবার যখন চারু খুব কষ্ট পেত তার চোখ দিয়ে জল আসতশুধু চোখই নয় একজন স্বাভাবিক মানুষের মত চারুর মুখের ভাব দেখেও দর্শকরা বুঝতে পেরেছে চারুর ভিতরের মনোভাবছবির একটি দৃশে্য চারু দোলনায় দোল খেতে খেতে যখন গান গাইছিল ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে... সে হাসছিল, তার মুখে আনন্দের ভাব ছিলোহঠাৎ করে চারুর মুখ কালো হয়ে আসে গানের একটা লাইন গাওয়ার সময়- কি যেন কিসেরো লাগি প্রাণ করে হায় হায়চারু এই লাইনটি গাওয়া শেষ না করেই চুপ হয়ে থাকে, তারপর সে অমলের দিকে তাকাতে থাকে এবং কিছুক্ষণ পরে মৃদু হাসেএই হাসি খুবই রহস্যময়ী যার আসল অর্থ খুঁজে পাওয়া কঠিন। চারুর মুখের ভাবের পরিবর্তন দেখে বুঝা যায় যে তার মন পরিবর্তনশীল

চারুর মনের পাশাপাশি তার ব্যাক্তিত ও দুই ধরনের। চারু অমলকে পছন্দ করে, সে চায় অমল ও তাকে পছন্দ করুক, কিন্তু অমলের সাথে সে রাগ দেখায়।  অমলের জন্য সে জুতা বানায়, কিন্তু সে অমলের সাথে কথা বলতে চায় না যখন অমল কুলফি নিয়ে আসে। আবার চারু জানে যে, অমলের সাথে তার কখনো মিল হবে না তারপরও সে অমলকে ধরে রাখতে চায়। যেমনঃ অমলের দাদা যখন বিয়ের প্রস্তাবের কথা বলে, চারু প্রথম দিকে অমলকে চাপ দেয় বিয়ে করার জন্য, কিন্তু যখনি শুনে অমল বিয়ে করলে লন্ডন চলে যাবে তখন সে চায় অমল বিয়ে না করুক। অমল বিয়েতে রাজী না হওয়ায় চারু খুশি হয়। অন্যদিকে, অমলের কথামত সে প্রথমে লিখতে চায় না, কিন্তু পরে সে ঠিকই তার লেখা কাগজে পাঠায়। চারুর মনের যে কি অবস্থা!

 চারু এই ছবিতে একটি সমালোচিত চরিত্র, কারন তার ভিতরে হিংসা এবং স্বার্থপরতা দুটোই আছেচারুর হিংসে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যখন সে শুনে যে অমলের লেখা কাগজে ছাপা হয়েছে, তাও আবার তার ইচ্ছেয় নয়, মন্দার ইচ্ছের কাগজে। অমল যখন তার লেখা দেখাতে চারুর কাছে নিয়ে আসে সে দরজা বন্ধ করে রাখে, যদিও সে জানত না অমল তার বানানো খাতা থেকে লেখাটি পাঠিয়েছে নাকি অন্য খাতা থেকে। চারুর স্বার্থপরতা দর্শকরা দেখতে পায় যখন সে অমলকে চায় শুধু তার কথা বলার জন্য। ছবির এক দৃশে্য অমল বিলেত প্রসঙ্গে বলতে থাকে যে, প্রথমে বর্ধমান, তারপর বিয়ে, তারপর বিলেত, তারপর বঙ্কীম। কিন্তু চারু জানতে চায়, বৌঠান কখন? 

 চারু একটু অদ্ভুত ধরনের মহিলা। চারু হঠাৎ করে এমন কিছু অদ্ভুত ধরনের কান্ড করে বসে যে তার কোন বিশ্লেষণ দেওয়া সম্ভব না। যেমনঃ চারু যখন তার কাগজের লেখা দেখাতে আসে সে শুধু শুধু অমলকে খাতা দিয়ে পিছন থেকে মারে, তারপর পানের কৌটো থেকে সব পান ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে পান বানায়। শুধু তাই নয়, চারু অমলের মুখে জোর করে পানটা ঢুকিয়ে দেয় এবং সে অমলকে ধরে কাঁদতে শুরু করে। আবার একটু কান্না-কাটি করে বলে, ওমা আমি জামাটা ভিজিয়ে ফেললাম। ছবির একটু শেষের দিকে আবার সে অমলকে ধরে কান্না করে এবং বলতে থাকে, আমাকে ছেড়ে যে ও না...। যদিও সে জানে যে, তার স্বামী বাড়ি চলে এসেছে এবং অমল তখন শুধু দরজা খোলার জন্য যাচ্ছিল। আমার মনে হয়, চারুর এসব অদ্ভূত ব্যবহার এবং ন্যাকামী দেখে অমল ভয়ে পালিয়ে গেছে। 

একজন নারী কত নামেই না পরিচিতি পায়ঃ মা, কন্যা, বোন, স্ত্রী, শ্বাশুড়ি, ননদ ইত্যাদি কিন্তু তার আবেগের পরিবর্তন কতটুকুই বা হয়? একটা ছোট্ট মেয়ে যেমন তার পছন্দের পুতুলটি ভেঙ্গে গেলে কষ্ট পায় তেমনি একজন মা তার শিশুর স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেলে কষ্ট পায়চারু ও কষ্ট পায় যখন তার পছন্দের মানুষ, অমল তাকে ছেড়ে চলে যায়চারুর সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় যখন সে দেখে অমল তার বানানো জুতো জোড়া ফেলে রেখে গেছে। 

যদিও চারু চরিত্রটিকে নারীর একটি কলঙ্কিত এবং অসতী রূপে দেখানো হয়েছে, এখানে চারু সম্পুর্ণ দোষী নয়। চারু নিঃসঙ্গতার কারনে তার আবেগকে ধরে রাখতে পারে নি। চারুর নিঃসঙ্গতাকে অমল কিছুদিনের জন্য দূর করতে পেরেছিল বলে চারু চেয়েছিল অমলকে সবসময় তার কাছে রেখে দিতে। যদিও চারু তার স্বামী, ভূপতিকে কষ্ট দিতে চায় নি, কিন্তু ভূপতির কষ্ট পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না যখন সে চারু আর অমলের কথা জানত পারল। চারুলতা ছবিটিতে একটি বিষয়বস্তু প্রমাণিত হলো যে, প্রতে্যকটি চরিত্র তার নিজের আবেগকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিল এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করাটা সবচেয়ে কঠিন ছিলো।


চারুলাতা - সমালোচানা, SASLI 2007

চারুলাতা উনবিংশ শতারীতে বাংলার বড় লোকের সমাজের কথা চবি। এ গল্পের চারুলাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নষ্টনীঢ় থেকে অভিযোজন করল। সত্যজিত রায় পরিচলিক ছিল।

ভুপাতি রাগনীতিক খবরের কাগজের মালিক আর এডিটার। সেও কাগজের জন্য লেখে। প্রায় কোখনো তার সময় কাজ কিন্তু রাগনীতিক লীলা করে না। ভুপাতি আদর্শবাদী আর সদিচ্ছা । তার হৃদয়বান আর উদার। সেভাবে ও নিজে দুর্ভাগ্য করাল কারণ তার অসন্দিগ্ধ। লোক বিশ্বাসপাত্র প্রমাণ করা আগে লোককে বিশ্বাস করে। যেবার শালাকে ওর হয়ে চালিত করা হয় সেবার একটা ভালো উদাহরণ।

কিন্তু গল্পটা আর জটিল। ভুপাতির আমলকে বিশ্বাস করা উচিত। ভারততে দেওর আর বউদি বিশেষ সম্বন্ধ যে প্রায় গলায় গলায় বন্ধুতা। যখন চারুলাতা তার দেওরকে প্রেম পড়ে তখন এসমাজের আসা বিনাশ করল।

আমল রসরাজ। আমলকে নিয়ে চবির সব মহিলারা মুগ্ধ ছিল। ও সম্প্রতি কলেজ পড়াশোনা শেষ করল। সাহিত্য ভালোবাসে আরে জবীনের কাজের জন্য লেখক হতে চাই। প্রতিবার কেউ বিয়ে বিষয় কথা বলে তার এটা ভালো লাগে না।

এটা ভালো প্রশ্ন। ঐতিহ্য ভারত বিয়ে করে কেন? কারণ আমলের জন্য ভুপাতি সম্বন্ধ করে আমরা ভাবতে পারি যে তাদের বাবা-মা মারে গেল। ভপাতি কিচু দরকার নেই। হলে আমল বিয়ে করতে হবে কেন?

আমল বিলিতি ঘুরে ওকালতি হতে প্রস্তাব করল। কিন্তু লখক হতে চাইলে বিয়ে করা হবে কেন? চারুলাতার পক্ষে এটা আর সত্যি। তার বাড়ি কারার মত আছে। সুধু সময়টা চারুলাতার বাড়ি গেল তখন ও আমলকে বাগান ছিল। ও চশমা দিয়ে অন্য লোককে কিন্তু তার নিজে সরল জীবন নেই।

অন্য প্রশ্ন ভুপাতি তার কাজের চেয়ে চারুলাতা আরো ভালোবাসা। ও কাজের চেয়ে চারুলাতা বেশি সময় কাটা ছিল। ও কাজ চারুলাতার রিভল ডাকল। কিন্তু সুধু চারুলাতার বিপ্তহগামি। আমরা সেভাবে বলতে পারে যে ভুপাতি চারুলাতার বিপ্তহগামী করাল? যদি ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কাযের মত সময় কাটত তাহলে এটা হত না। কি দরকার? কাজের আর বিয়ের সম্বন্ধের জন্য ঠিক ভারসাম্য।

চারুলাতা খুবই বুদ্ধমতী। তার গুন ঐতিহ্য ভারতের সমাজের নষ্ট করল। সেভাবে কত মেয়ে আর মহিলা তার গুন নষ্ট করল কি? ভারতের আর সব পৃথিবীটার জন্য জত থাকে তত লক্ষ থাকে।

অন্য জিনিস বলতে পারে কিন্তু আবার শেষ করি বলার সময়।


Bengali Poetry Recordings Online

Hey I'm not sure if anybody has seen this before, but I just stumbled upon a great web resource.  The U.S. Library of Congress has recordings available online of several living Bengali poets reading their poetry.  Good for listening practice for novices like me, and I'm sure it's good for more poetic purposes for pros like Mandiradi!

Here's the link: http://www.loc.gov/acq/ovop/delhi/salrp/bengali.html


SASLI 2nd Year - Brian Heilman Journal 3 - কিছু কিছু

সুপর্ণ কানিকক্ষন চিন্তা করে বলল - ‘জানি না। পৃথিবীটা ভারি অাশ্চর্য জায়গা।’
অসিতা স্বপ্নালু কষ্ঠে বলল - ‘পৃথিবীটা ভারি অাশ্চর্য মিষ্টি জায়গা।’
অার যখনি অাসিতা তার সব্দ বলেছিল, তখনি বাইরে সক্তিশালি বাজ বাজল।
অসিতার ভয় পেল, এবং সে বলল - ‘ঝড় উঠছে।’
সুপর্ণ অাসিতার ছোখের ভেতরে দিখে বলল - ’হঁ‍্যা, কিন্তু কিসের ঝড়?’
অসিতা বুঝে বলল - ’এটা কি? প্রেম? প্রেম কি?’
সপর্ণ এক নিমিষে উত্তর দিল - ’প্রেম বন্ধুত্ব অসিমা, অার তুমি অামার হ্রিদয়ের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।’
বৃষ্টির সব্দ উঠল। বাজ অাবার বাজল, অার বাজের পরে বাড়ির অালো বন্ধ করল।
সুপর্ণ দরজার সামনে দেঁড়িয়ে অাস্তে-অাস্তে এক সব্দ বলল - ’এসো।’
অসিতা উঠল অার দরজাতে হঁাটল। কিছুক্ষনের পরে সুপর্ণের ছোেখ দিখে, সে দরজা খুলল অার বাইরে দৌড়াল। বৃষ্টিতে গান করল:

   

একজন যুবক চিনি চিনি,
    অামার বন্ধু তিনি তিনি,
    শ্বপ্ন বা অাসল জানি না -
    সুধু তো অামার ভালবাসা

সুপর্ণ একমুখ হাসিয়ে বৃষ্টিতে দৌড়াল অার একটু নাছ করল। সে গাইল:

   

একজন যুবতি চিনি চিনি,
    প্রিয় বন্ধু তিনি তিনি,
    শ্বপ্ন বা অাসল জানি না -
    সুধু তো অামার ভালবাসা

তারা বৃষ্টি, ভালবাসা, অার তাদের হ্রিদয়ের সঙ্গীেতর সঙ্গে নাছ করল। একসঙ্গে গাইল:

    অামার পাশে এনেছো,
    এখন অারো কাছ এসো।
    যখন হ্রিদয় জীবন্ত,
    তখন কিছু লাগবে তো -
    কিছু কিছু লাগবে তো!

গানের শেষ লাইনের পরে, সুপর্ণ অার অসিতা মুখোমুখি দেঁড়াল। সুপর্ণ অসিতার হাত ধরে বলল - ’কিছু কিছু লেগেছে, অসিতা।’
অাসিতা মুখ টিপে হেসে বলল - ’হঁ‍্যা, অার কিছু কিছু লাগবে তো। অাশ্চর্য মিষ্টি কিছু লাগবে তো।’

তাদের পিছনে, মন্মথ তার গাড়িতে ছুপ করে বসল। কিছুক্ষনের পরে সে গাড়ির অালো বন্ধ করল, দরজা খুলল, অার ব্রিষ্টিতে হঁাটল। দুজনকে বলল - ‘অামি জানতাম’ অার বাড়িতে হঁটল।
সুপর্ণ অার অসিমা মন্মথের সব্দ সুনে নিস্তব্ধ ছিল। অাস্তে-অাস্তে একসঙ্গে বাড়িতে হঁটল।   
মন্মথ টেবিলে বসছিল। যখন দুজন পৌছাল, তখন সে অাবার বলল - ’অামি     জানতাম।’
অাসিতা বলল - ’মন্মথ, অামরা... অামরা...’
মন্মথ অাবার বলল - ’অামি সবসময় জানতাম।’ সে দেওয়ালে দেখছিল, কঁাটছিল।
সুপর্ণ বলল - ’দাদা, অামি ব‍্যাখ‍্যা করতে পারি। অামরা...’
অবশেষে মন্মথ বলল - ’অামি সবসময় জানতাম যে... যে...’
নিস্তব্ধ দুজন দরজার সামনে দেঁড়াল।
’অামি সবসময় জানতাম যে তোমাদের বন্ধুত্ব অাসল প্রেম ছিল।’

দশ বছর কেটে গেল। সুপর্ণ অার অসিতার বিয়ে হয়েছে, দুটি মেয়ে হয়েছে। প্রতিরাত, যখন তাদের মেয়েরা বিছানার উপরে বসে, সুপর্ণ অার অসিতা মেয়েদের তার প্রেম কাহিনী বলে।
অার মেয়েরা তার মা-বাবার গান শুনে সোয়:

   

অামার পাশে এনেছো,
    এখন অারো কাছ এসো।
    যখন হ্রিদয় জীবন্ত,
    তখন কিছু লাগবে তো -
    কিছু কিছু লাগবে তো!


SASLI 2nd Year: Journal 3 Tanjina: অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী

১...২...৩... লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন....স্টার্ট!

(সুপর্ণ এবং অসিতা বসে আছে লিভিং রুমে)

অসিতাঃ সুপর্ণ, আমাদের এভাবে প্রতিদিন দেখা করা কমানো উচিত।

সুপর্ণঃ কেন কি হয়েছে? কোন অসুবিধা?

অসিতাঃ কোন অসুবিধা এখনো হয়নি, কিন্তু আমার খুব ভয় হয়। যদি কেউ বুঝে ফেলে যে আমরা একে অপরকে ভালোবাসি, যদি তোমার স্ত্রী কিংবা আমার স্বামী বুঝে ফেলে তাহলে একটা বড় সমস্যা হয়ে যাবে। আর সমাজের কথা ভাবো।

সুপর্ণঃ ভয় কিসের? আমরা তো কোনো পাপ করছি না, আমরা স্রেফ একজন আরেকজনকে ভালোবাসি। ভালোবাসা তো কোনো পাপ নয়। সমাজকে নিয়ে ভাবার দরকার নেই, এই সমাজে সবাই সমান। তুমি......

সুপর্ণ কথা শেষ না করতেই মন্মথ ঘরে ঢুকল।

মন্মথঃ অসিতা তুমি সুপর্ণদা কে এখনো চা দাওনি?

সুপর্ণঃ না দাদা, আজকে উঠি। এমনিতেই দেরী হয়ে গিয়েছে।

মন্মথঃ তা হয় নাকি, বসুন। গল্প-গুজব করি।

সুপর্ণঃ আজ না। আরেকদিন।

সুপর্ণ আর অসিতা একে অপরের মুখের দিকে তাকাল। তারপর সুপর্ণ বের হয়ে গেল। মন্মথ এই প্রথমরারের মত এটা লক্ষ করলো।

এভাবে আরো অনেকদিন গেলো, সুপর্ণ বেশীরভাগ সময় মন্মথ যখন ঘরে থাকে না তখন আসে। হঠাৎ একদিন মন্মথ এসে দেখে যে অসিতা ঘরে নেই। মন্মথ প্রথমেই ফোন করল সুপর্ণের বাসায়। সুপর্ণের স্ত্রী, তৃপ্তি জানাল যে সুপর্ণ অনেকক্ষণ হয়েছে বের হয়ে গিয়েছে।  মন্মথ কি করবে কিছুই বুঝে পাচ্ছিল না। তার মাথা প্রায় নষ্ট হয়ে পাগল হয়ে যাবার অবস্থা। ওদিকে আবার বাইরে কাল বৈশাখীর ঝড় বইছে। বাইরে একটা মানুষও নেই, সবকিছু নিস্তব্দ!

প্রায় তিন ঘন্টা পরে দরজায় টোকা মারার শব্দ পাওয়া গেল। মন্মথ জিজ্ঞেস করলো, ওখানে কে?

দরজার ওপাশ থেকে জবাব এল, দাদা, দয়া করে দরজাটা খুলুন। 

দরজা খুলতেই দেখা গেলো, সুপর্ণ দাঁড়িয়ে আছে । তার হাতে একটি চিঠি। মন্মথ জানতে চাইলো, অসিতা কোথায়?

সুপর্ণ বললো, আপনি চিঠিটা পড়ুন তাহলেই জানতে পারবেন।

মন্মথ চিঠিটা খুলে পড়া শুরু করল। চিঠি পড়া শেষ হলে সে সুপর্ণকে বললো, ধন্যবাদ আপনাকে। অসিতা এখন কোন হাসপাতালে আছে?

সুপর্ণ জানাল যে, সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গিয়েছে যে, সুপর্ণ ঘরে না থাকলে হয়তবা অসিতা তার মাসীর সাথে শেষ দেখাটাও করতে পারত না। এই বলে সুপর্ণ বের হয়ে গেল।

মন্মথ এই ঘটনার পর অসিতার সাথে অত বেশি কথা বলেনি। মাসীর শবদেহ করার পর অসিতা যখন ঘরে এল তখন মন্মথ একদিন জিজ্ঞেস করলো, অসিতা, তুমি কি আমার সঙ্গে সুখে আছো?

অসিতা বলল, এটা আবার কোন ধরনের প্রশ্ন? আমি তোমার সাথে সুখে আছি এবং সবসময় থাকবো। এ নিয়ে কোন সন্দেহ আছে নাকি?

মন্মথ বলল, না, মাঝে মাঝে একটু চিন্তা হয়।

ওদিকে সুপর্ণের স্ত্রী একদিন এক প্রতিবেশীর বাসায় গেলে, প্রতিবেশীর গিন্নি বলল, আপনার স্বামী নাকি অসিতা নামের কোন মেয়েকে ভালোবাসে? আবার শুনলাম একসাথে নাকি হাসপাতালেও যায়?

এসব শুনে তৃপ্তির মাথা খারাপ হয়ে গেল। ও ঘরে এসেই সুপর্ণকে সবকিছু বলল। সুপর্ণ বলল, সবকিছুই মিথ্যা এবং বানানো।

শুধু তৃপ্তির প্রতিবেশীরা নয়, মন্মথের বন্ধু প্রতিবেশী সবাই এ সম্পর্কে কথা বলতে লাগল। মন্মথের বন্ধুরা খারাপ উপদেশ দেওয়া শুরু করল। মন্মথের বন্ধুরা সুপর্ণকে মাস্তান দিয়ে মারতে বলল। মন্মথ মানা করলেও বন্ধুরা নিজেরাই মাস্তান ভাড়া করে সুপর্ণকে মারার জন্য পাঠাল। মাস্তানরা সুপর্ণকে এমন মার দিল যে সুপর্ণ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল। সুপর্ণ মানসিক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হ্ল। মন্মথ এসব ঘটনার পর ঠিক করলো যে, অসিতাকে নিয়ে সে আর সংসার করবে না। মন্মথ অসিতাকে তালাক দিয়ে দিল এবং সে আরেকটি নতুন বিয়ে করল। 

এখানেই কাহিনীর শেষ হ্ল না। তৃপ্তির ভাইয়েরা তাকে এবং তার ছেলেকে নিয়ে গেল তৃপ্তির বাবার বাড়ি। ভাইদের বারণ সত্তে ও তৃপ্তি তার স্বামীকে দেখার জন্য প্রায়ই মেন্টাল হসপিটালে যেত। একদিন তৃপ্তি সুপর্ণকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলে গাড়ি দুঘ র্টনায় সে মারা যায়। সৌভাগ্যক্রমে, তৃপ্তি এবং সুপর্ণের ছেলে, অজিত বেঁচে থাকে। অজিতকে তার মামারা এতিমখানা মানে ওরফান হাঊজ এ দিয়ে আসল। অসিতা আবার এতিমখানায় বাচ্চাদের পড়াত। অজিতের কথা জানতে পেরে অসিতা বাচ্চটাকে দেখাশুনা করার দায়িত্ব নিল।

********বাইশ বছর পরের কথা **********

অজিত তার স্ত্রীকে নিয়ে লিভিং রুমে বসে আছে । একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। অজিত তার স্ত্রীকে বলল, নিলু, আমি যখন দিল্লী এ্যায়ারপোর্টে তোমায় প্রথম দেখি কখনো ভাবতে পারিনি তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে।

নিলু স্বপ্নালু কন্ঠে বলল- পৃথিবীটা ভারি আশ্চর্য মিষ্টি জায়গা।

অসিতা পর্দার আড়াঁল থেকে ওদের কথা শুনল। কখন যে অসিতার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল সে টের পেল না। তখন তার মনে একটাই প্রশ্ন, সতি্য এটা কী? প্রেম?


আর প্রেম গল্প - SASLI 2007

এক আর তিন মাস কেটে গেছে। আসিতা আর সুপর্ন তবু অন্য বাসার দিকতে টান থাকে। এখন পাড়ার বাসিন্দা আসিতার আর সুপর্নর সম্বন্ধ বলতে সুদু করেছে। তারা বলছে –

সে তার বাসাতে সবসময় যাওয়া-আসা চলতে লাগে কেন? আমি সুনেছি যে তারা মন্মথের বাসার টেবিলে জনান্তিকে কথা বলে আর মন্মথ বাসাতে নয়।

আমি দেখেছ কেমন তারা পরস্পর দেখে। আমাকে কথা সুনুন কিছু ভালো এটা থেকে যাবে না।

আমার দাদা বললেন যে দু-চার বছর আগে, তিনি নাগপুরে আসিতা আর সুপর্নকে দেখলেন। তারা কি ছেলেবেলা বন্ধু আছে?

চারদিকে যে সুদু আড্ডাটা কাকে সুনছে সে আসিতার আর সুপর্নর কথা আছে। আনেক জিন্নিস মন্মথ আর তৃপ্তিকে সুনছে।

তারপর আসিতা গর্ভ হয়ছে। কারণ আগে সে মেয়ে মারা যাই, তার ডাক্তার তাকে বলছিলেন –

আপনার আনেক বিস্রাম করা উচিত। হাতবেন না। কাজ করবেন না। আপনার চাকরানির সব বারির কাজ করা দরকার।

কারণ যে ডাক্তারের কথা সে সুপর্নের বাসাতে জাবার থেকে নিবারণ করল। তাই সুপর্নের রোজ আসিতার বাসাতে গেতে সুরু করল। একবার আনেক আড্ডা করা হল।

সব আড্ডার দারুন মন্মথ তার স্ত্রি সঙ্গে সুপর্নের বিসয়ে কথা বলছে। যে কথাটা আসিতা তাকে বলে সে কেউ জানে না কিন্তু তা জানে যে সুপর্ন বাসাতে আসে থাকল।

সুপর্ন ফল আর সবজি, তৃপ্তির খাবার, বাচ্চা কাপড় এবং বাংলা আর ইংরিগি বই আল। জখন আসিতা কিছু করছে না তখন সুপর্ন ফিরে গিয়ে আরে গল্প করছে। কখনো কখনো, সেও গান গাইল। প্রাই সে মন্মথকে সাহায্য করল। তার ভালো বন্ধু ছিল।

যে আতুঁড় গর যাবার সময় ও হল। এবার আসিতা ছেলে হল কিন্ত সেও মারা গেল। কষ্টের মারফতে আসিতা না কেয়ে রোগা হয়ে নিজে মারা গেল। মন্মথ সাধু হল আর প্রতি দিন সাড়া দিন সে আসিতার জন্যে মিনতি করত। এক বছরের পরে সে খুন হল কারণ গ্রামের লোক তার বড় যোগবল ভয় পেল।

সুপর্ন আর তৃপ্তি আনেক ছেলেমেয়ে হল। সময়তে সুপর্ন আসিতার কথা মনে রাখে না। জখন মন হারায় তখন থাকে না।


SASLI 2nd Year, Journal 2: Tanjina

আমাদের জীবনে প্রতিদিন নতুন কিছু ঘটছে। আজকে হাসি তো কাল কান্না। সময় যে কখন স্রোতবাহী নদীর মত চলে যায় তা টের পাওয়া যায় না। কোন এক জ্ঞানী ব্যাক্তি বলেছিলেন, ময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। কথাটা খুব ই সtiতি্য। যে সময় চলে যায় তা আর কখনো ফিরে আসে না। এতক্ষণ সময় নিয়ে অনেক লিখলাম আজকে ভাবছি আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা নিয়ে লিখব।

আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। আমি তখন বাংলাদেশে। উনিশশত সাতানব্বইয়ের কথা। আমরা সে বছর আমাদের নিজেদের নতুন বাড়ীতে প্রথমবারের মত উঠেছি। আমার মা- বাবা দু জনের স্বপ্ন দিয়ে গড়া সুন্দর ছোট্ট একটি বাড়ি। এই বাড়িটা বানাতে আমার বাবা কত দিন না খেয়ে অফিসের পর বাড়ি তৈরীর দেখা শুনা করেছেন। মায়ের পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইন বানানো হয়েছিল। দরজা জ্বানালা থেকে শুরু করে এমনকি বাথরুমের সিংক এর রঙটাও অনেক দেখাশুনার পর লাগানো হয়েছিল। আমদের বাড়ীর কাজ যখন শেষের দিকে আমার এবং আমার ভাইয়ের কি আনন্দ! নিজেদের নতুন ঘর মানে হ্ল আরো বেশি ছোটাছোটি, আরো বেশি মারামারি। আমার আনন্দের পরিমাণ দশ গুণ বেশি, কারণ আমাদের ন তুন বাড়ি থেকে আমার স্কুলটা একটু দূরে হয়ে যাবে, তার মানে জীবনে প্রথমবারের মত স্কুল বাসে করে আসা –যাওয়া। আহা কি আনন্দ!                                 

অবশেষে আমাদের প্রতিক্ষার সময় শেষ হ্ল। আমাদের বাড়ি থাকার জন্য উপযুক্ত হয়ে গেল। তারিখটা ঠিক মনে করতে পারছি না, কিন্তু মে মাসের শেষের দিকে কোন একদিনে একটি ভালো সময় দেখে আমরা বাড়িতে উঠলাম। বাড়িটায় ঢোকে আত্নাটা যেন এক অদ্ভুত শান্তি অনূভব করল। আমাদের বাড়িটা ঠিক শহরের মাঝে নয়, আবার একদম মফস্বলেও নয়। কিন্ত আশেপাশে ছোটো ছোটো অনেক পুকুর ছিলো এবং কোলাহল এত বেশি ছিলো না। আমাদের বাড়িতে উঠার পর সব আত্নীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং মিলাদের আয়োজন করা হয়। মিলাদ’ মানে হ্ল, ধর্মীয় প্রাথনার আয়োজন যা কোনো বিশেষ উপলক্ষে করা হয়। বাড়ি দেখে সবাই খুব খুশি। আমাদের পাড়ায় এক মাত্র আমাদের বাড়িটা তখন দেখতে সাদা ছিলো না। বাড়ির বাহিরের রঙটা ছিলো হালকা সবুজ রঙ্গের, ঠিক দেখতে ধান ক্ষেতের মত।   

বাড়ীতে উঠার পর tতৃতীয় দিনে শুরু হয় ঝড়- বৃষ্টি। মে- জুন মাসে ঝড়- বৃষ্টি অস্বাভাবিক কিছু না, কিন্ত বৃষ্টির সময়সীমা আস্তে আস্তে অস্বাভাবিক হয়ে গেল। একটানা প্রায় চার- পাঁচদিন বৃষ্টি। বৃষ্টি হচ্ছে তে হচ্ছে ই...থামার কোনো নাম নেই। আমাদের বাড়ির আশেপাশে পানি এসে গেল, আস্তে আস্তে পানি আমাদের দরজার ভিতর দিয়ে আসা শুরু করল। কি যে ভয়ানক অবস্থা! আমার মা- বাবা দুজনেই বুঝতে পারলেন যে, বৃষ্টি আরও বাড়বে।  সাথে সাথে পানি ও পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠছিল। তখন রাতে ই ওনারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, পরের দিন স কালের ভিতর বাড়ি থেকে বের হতে হবে। না বের হলে অবস্থা আরো বিপদজনক হবে। আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।

পরের দিন সকালে আমরা নৌকো করে আমার মামার বাসায় স্থানান্তর হওয়ার জন্য রওয়ানা হই। পিছনে শুধু ফেলে রেখে যায় নতুন, ছোট্ট একটি সবুজ বাড়ি। আমার মা- বাবা কি জানত যে, প্রাকৃতিক একটি দূঘটনা এভাবে ওনাদের স্বপ্নের বাড়ীকে আক্রমণ করবে? আর জানলেই বা কি করতে পারতেন...এটা তো প্রাকৃতিক!

 বাড়ীতে অবশ্য এক মাস পরে ই ফেরত আসি, কিন্ত প্রথমবার বাড়ীতে উঠে বেশি দিন না থাকার কষ্টটা এখনো আছে। আমার ছোট বোন এই অভিজ্ঞতার অংশীদার হতে পারে নি, কারন ও তখনো এই পৃথিবীতে আসে নি। কিন্তু এখন ও অনেক কিছু জানে। সময়ের সাথে সাথে ও বড় হয়ে উঠেছে, এমনকি ও এখন অনেক সুন্দর চিঠি লিখতে পারে। অবশ্য বাংলায় না, তারপরেও দারুণ ভালো। ওর একটি চিঠি আজ পেয়েছি, কালকে হয়ত বা ক্লাসে নিয়ে আসব। আমি জানি এটা একটু অন্য রকম দেখায়, তারপরেও নিয়ে আসব!!

If you have any problem understanding any of my sentences or words. Please let me know!!


SASLI 2nd Year - Brian Heilman Journal 2 - ঝগড়া

(নতুন শব্দ লাল রঙের)

প্রিয় স্কট, তানজিনা, অার মন্দিরা,

অামার গুরূত্বপূর্ন খবর অাছে! অামি কলেজ লাইব্রেরির সামনে এক চিঠি দেখলাম। চিঠি পড়লাম, অার অামি খুবই বিস্মিত ছিলাম! এটা ’উৎসব’ সিনেমার শিশিরের চিঠি যে সে তার ঠাকুরমাকে লিখল! চিঠিটা পড়, অামার কথার নিছে!

_

প্রিয় ঠাকুরমা,

নমস্কার। অামি শিশির কথা লিখছি। অাপনি কেমন অাছেন? অাসা করি যে অাপনার শরির ভালো থাকে। অামি সুনেছি যে কেয়া অার অরুণ তঁর বাড়িতে থাকছে। অামার মনে হয় যে অাপনার খুব অানন্দ হচ্ছে! বেশি জীবন ওখানে অাছে এখন!

অাপনি জানেন যে অামি অাপনার বাড়ি কিনতে চাই, তাই এ বিষয়টার সম্বন্ধে লিখব না। অামার নতুন বিষয় অাছে। পারুলদিদির ছেলে জয় অামাকে এক সিনেমা ডাকে দিল। সিনেমার নাম ’উৎসব’ অার অামি ভাবি যে পূজার সময় জয় তার নতুন ভিডিওক‍্যামেরাতে এ সিনেমাটা করেছে। অাপনি, বড় দাদা, মেজো দাদা, পারুলদিদি, কেয়া, অরুণ অার সবাই চবিতে অাছে!

কিন্তু অামি লিখছি কারণ অামার সিনেমা ভাল লাগল না। এটা অামার কস্ট হাওয়াল

অাপনার পরিবারের অনেক সমস‍্যা অাছে কেন? অামি অাপনাকে বলব কেন: সবাই অাপনার স্বামিকে ভুলেছে। বাবা সব ছোটো ছোটো পরিবারের ঝগড়া অগ্রাহ‍্য করতেন। শুধু গুরুত্বপূর্ন বিষয় তঁর মনে থাকত: স্বাধীনতা, ভালবাসা, অার সত‍্য। অার এখন খুবই সাধারণ কিছু তঁর স্ত্রী অার ছেলেমেয়ের মনে সবসময় থাকে। অাপনাদের সব ঝগড়াগুলি ব‍্যর্থ

হ‍্যঁা, অামার রাগ করছি। কেন? অামার রাগ করছি কারণ অামি অল্প বয়সের লোকের বিষয়ে ভাবছি। প্রথম, কেয়া অার অরুণ। অাপনার পরিবারের সব লোকের মধে‍্য, অরুণ সবচেয়ে বুদ্ধিমান। তার বাবার চরিত্র অাছে। অার অাপনি, বড় দাদা অার সবাই অরুণের বিযষে খুবই খারাপ জিনিশ বলেন। যদি বাবা এখানে ছিতেন, তাহলে তিনি অরুণকে সাহায‍্য করতেন। কেন অাপনি তাকে সাহায‍্য করেন না?

অার কেয়ার বিষয়ে অামি একটু লিখব। তার অাপনার সম্বল দরকার, কিন্তু অাপনি তাকে শুনেন না। তার অাবেগের বিষয়ে অাপনি ভাবেন না। কেয়ার অল্প বয়স অাছে, তাই অাপনি অার সবাই তাকে কি করতে বলেন। অাপনার মায়ের মত ভালবাসা কথায়?

শেষে, অামি জয় অার সম্পার বিষয়ে লিখব। জয় অার সম্পার গল্প অামি অার পারুলের গল্প, না? বেশিরভাগ হঁ‍্যা, কিন্তু একটু কিছু অালাদা। এখন, জয় অার সম্পা অামি অার পারুলের গল্প সুনেছে। অার তারা অাপনার পরিবারে থাকে। তাই অামি জানি দুটো কিছু। প্রথম, জানি যে তারা তার অাবেগ সুনবে না। অার দ্বিতীয়, জানি যে তার সুন্দর বন্ধুত্ব মারা য়াবে। কি দুঃখিত। যদি অাপনারা জয়কে পরিবারের ফেলে দেন, তাহলে তার জীবন বেশ ভাল হবে!

হঁ‍্যা, অাপনি অার বড় দাদা অামার গুরুজন। কিন্তু কীরকম গুরুজন অাছেন? অাপনার ভাই-বোনের অাবেগ সুনেন না, অার অাপনার ছেলেমেয়ের সম্পর্ক মারা যাওয়ান

অাবার অামি লিখব: অামার কস্ট হচ্ছে। অাপনার বদলে যাওয়া উচিত। এখন।

ইতি

অাপনার শিশির

_

স্কট, তানজিনা অার মন্দিরা:

কি ভাবেছো? অামাকে বল!

ভালবাসা,

তোমার ব্রায়েন



স্কট জেঙ্কিন্স - জর্নাল ২ - অনুবাদ, বৃষ্টি আর গন্ডারটার, SASLI 2007

অনুবাদ - ঠমাস মেরটনের প্রবন্ধ, বৃষ্টি আর গন্ডারটার প্রথম অনুচ্ছেদ

একথা আমাকে বলুন বৃষ্টি একটা উপযোগ হওয়ার আগে যে তারা মতলব আঁটার আর বিভাগ করে টাকার জন্য। তারা নিয়ে আমি মনে যারা ভাবা পারে না যে বৃষ্টি উত্সব আছে, যারা সেটার বদান্যতা তারিফ করে না, যারা ভাবে যে যা দাম নয় তা কদর নয়, যে যা বিক্রয় করতে পারে না তা দৈহিক নয়, জেন শুধু উপায়টা জখন কিছু দৈহিক হয় তখন বাজারে বেচায়। সময়টা হবে তখন তারা আপনাকে আপনার বৃষ্টিই বেচাবে। এখনি, এটা তবু দাম নয় আর আমি এটার ভেতরে আছে। আমি ওর বদান্যতা আর ওর অর্থশূন্য পুণ্যশ্লোক করি।

Let me say this before the rain becomes a utility that they can plan and distribute for money. By they, I mean the people who cannot understand that rain is a festival, who do not appreciate its gratuity, who think that what has no price has no value, that what cannot be sold is not real, so that the only way to make something actual is to place it on the market. The time will come will they will sell you even your rain. At the moment it is still free, and I am in it. I celebrate its gratuity and its meaninglessness.

আমার মনে আছে প্রথমবার ঠমাস মেরতনের বই পড়া হল। আমার ষোলো বছর ছিল। মুদিখানাতে কাজ করা হল আর সব টাকাটা বই পড়তে কেনা হল।

গুপ্তচরবৃত্তি আর গুপ্তহত্যা করার কথা একটা বই পড়া হল। প্রায় বইয়ের এরকম পড়া হল না কিন্তু ওবার পড়া হল। একটা উপনায়ক ছিল যে বইয়ের অগ্রে গুপ্তঘাতক ছিল কিন্ত পর ও সাধুসঙ্গ থাকে। সাধু আশ্রমের নাম সিস্টেরসিন; তারা খ্রিস্টান দল। বইতে, উপনায়কটা অনাহারে থাকা নিয়ে আত্মহত্যা করা হল কারণ সে অপরাধবোধ থাকল। কিন্তু আমাকে সিস্টেরসিনের সম্বন্ধে কৌতুহল উঠা হল।

দোকানতে যাওয়া হল আর ধর্মের অংশ ছিল। বইয়ের নাম ঠৌহাট্‌স ইন সোলিটুডে। আমি এবইটা খুব পরছেন্দ করলাম।

বইয়ের দুটো অংশ আছে। প্রথম অংশ ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ জীবণ কথা আর দ্বিতীয় অংশ নির্জনতার ভালবাশার কথা ও লিখলো কথা।

আমার মনে হয় যে আনেক ভাবনা বইতে হিন্দুর ভাবনার মত আছে। নাশ থেকে সর্জন হয়। আঁকার আগে খালি হৃদয়পট আছে কিন্তু খালি হৃদয়পট দেখা হয় না। ভাবনাগুলো আলেপ নয়। না, দেব হৃদয়পটের শিল্পী। বই একটা শিল্পী নয় আর ওটা একটা খালি হৃদয়পট আঁকা নয়।

কিন্ত কোনো বাঙালি নির্জনতা ভালবাশে কি? হয়ত বা নয়ত। আমার তবু এবইটা ভালো লাগে কিন্তু সুধু কখনো কখনো আলোচনার মত পড়তে চাওয়া নয়।