https://www.verbling.com/find-teachers?price%5B%5D=5&price%5B%5D=80&sort=magic&language=bn

« April 2016 | Main | June 2016 »

বিদেশে বাংলা পড়ানো

অনেক অল্পবয়সী বাঙালি ছেলেমেয়ে আমাকে আজকাল জিজ্ঞেস করে কীভাবে বিদেশে বাংলা পড়ানো যায় । সত্যি কথা বলতে এর কোনো বাঁধা রাস্তা নেই । প্রথমত, বিদেশে খুব কম জায়গায় বাংলা পড়ানো হয়। তার মধ্যে আছে ভাষা পড়ানোর জন্য লেকচারার পজিশন, আর প্রফেসরের পদ। লেকচারার হিসেবে আসতে গেলে পশ্চিমবঙ্গে বা বাংলাদেশে বিদেশীদের ভাষা পড়ানোর অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন । যতই ভালো রেজাল্ট থাক না কেন, ভাষা পড়ানোর জন্য অভিজ্ঞতা এখনও দরকার। তার সঙ্গে দরকার শিক্ষা পদ্ধতির জ্ঞান। আমি তুলনামূলক সাহিত্য পড়া শেষ করে অ্যামেরিকান ইন্সটিটুট অফ ইন্ডিয়ান স্টাডিজ-এ বারো বছর বাংলা পড়িয়েছিলাম। ইন্টারভিউতে কাজে লেগেছিল আমার বি-এড পড়ার অভিজ্ঞতা । এখন ওখানে ইন্টারভিউতে কী জিজ্ঞেস করা হয় জানি না। এসব করে তবে এসেছিলাম ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানে। তারপর ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোতে । এর পর জীবন আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। নতুন প্রজন্মকে এই পেশায় আসার জন্য উৎসাহিত করব কিনা তাও ঠিক বুঝতে পারি না।
নীলমণি নামে একটা ছেলে তার সিভির ঝাপসা একটা স্ক্যান করে আমাকে বার দুয়েক পাঠিয়েছিল। একবার চিঠিতে লিখল, “ আমি কি বিদেশে পড়াবার যোগ্য নই ?” আমি কী করে এর উত্তর দেব বুঝতে পারি নি। উত্তর দিই নি। কিন্তু আমার বেশ মন খারাপ হয়েছিল ।
আমি যে সময় পড়াতে শুরু করি, উনিশশো একানব্বইতে, তখন শুরু করেছিলাম কোনো ট্রেনিং ছাড়াই । সে এক অভিজ্ঞতা। আমাকে আমার বস অদিতি সেন বলে দিয়েছিলেন, “ একেবারে ইংরিজি বলবে না। পুরোটাই বাংলাতে পড়াতে হবে। এমনিও ইংরিজিতে ভালো ছিলাম না, তাই ক্লাসে আসার আগে খুব আনন্দ হয়েছিল । কিন্তু ক্লাসে উনি আমাকে আনন্দবাজার থেকে কী একটা ছোটো খবর ধরিয়ে দিলেন, তাতে ‘মন্ত্রী’ আর ‘মন্ত্রীসভা’ শব্দদুটো ছিল, আমার মনে আছে। সে আমি তো ছবি এঁকে, নেচে-গেয়ে মন্ত্রীসভা’ বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু বেচারা ছাত্র-ছাত্রীরা কিছুতেই বুঝতে পারছিল না। আসলে ডিরেক্ট মেথড এলিমেন্টারি লেভেলে কাজে লাগলেও কঠিন শব্দ ও ধারণা বোঝানোর ক্ষেত্রে কতটা উপযোগী সে সম্বন্ধে আমার সন্দেহ আছে । অনেক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে , অনেক ওয়ার্কশপ করে আজকে পড়ানোর ব্যাপারটা সহজ মনে হয়।
আমাদের হাতে লিখতে হত সবকিছু। আজিজদা সেই সব কাছের দোকান’ কপিক্যাট’-এ গিয়ে জেরক্স করে আনত। পড়াতে গিয়ে আমার হাতের লেখা ভালো হয়ে গেল। আজ প্যাকিং পর্বে সেই রকম একটা ওয়ার্কবুক হাতে পেয়ে গিয়ে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে গেল। তারপর কম্পিউটার এলেও বাংলা ফন্ট সহজ হল ‘অভ্র’ আসার পরে । এখন তো ইমেলও করা যায় বাংলায়। তবে অ্যাপেল বাংলা লেখার সহায়ক না। যদি ছাত্রছাত্রীরা লেখেও বা ওতে, আমি যখন সে লেখা পাই, সব আকার-ইকার ভেঙ্গে চুরে যায়।
আমার সেই হাতে লেখা অনুশীলনীর ছবি দিলাম।

 

 

P_20160524_221520_1
P_20160524_221520_1
P_20160524_221520_1