https://www.verbling.com/find-teachers?price%5B%5D=5&price%5B%5D=80&sort=magic&language=bn

« December 2016 | Main | May 2017 »

Bangla Intensive program for Japanese students in Jadavpur University, 2017, Update 1

জাপানি ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে বসে বসে ছ সপ্তাহ পড়াশোনা করে বেজায় ক্লান্ত হয়ে গেছিল। শেষ সপ্তাহে আমিও উড়ি উড়ি করছিলাম। বিকেলে ওদের নিয়ে যাদবপুর ইউনিভারসিটি ঘোরাতে গেলাম। বলছিলাম, " দেখো, দেখো, এখানে আমার তুলনামূলক সাহিত্যের ক্লাস হত, এখানে আমরা আড্ডা মারতাম। " তারপর মলয়দার চায়ের দোকানে ওরা নিজেরা বাংলায় কথা বলে কফি, চা আর বাটার চিকেন ফ্রাই কিনল। তারপর গেলাম ইঞ্জিয়ারিং ডিপার্টমেন্টগুলোর দিকে। বিশাল মাঠটা দেখিয়ে বললাম, " এখানে আমার বাবা যখন ইঞ্জিয়ারিং পড়তেন, বাবাও খেলতেন"। ওই মাঠই দেখলাম ওদের টানল ( অবশ্যই আমার বাবার গল্প শুনে নয়), ওরা যে খেলাধূলা করতে খুব ভালোবাসে তখন বুঝলাম। ওদের নিয়ে গিয়ে আলাপ করিয়ে দিলাম শারীর শিক্ষার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে। বাংলার ছেলেমেয়েরা কী সুন্দর সৌজন্যতা মেনে, আন্তরিকভাবে ওদের সঙ্গে কথা বলল, কী বলব। তারপর ওরা খেলতে লাগল সবাই মিলে। বাসকেটবল। আমি ছবি তুললাম কয়েকটা। আমার ছাত্রছাত্রীদের এরকম উদ্ভাসিত মুখ দেখে আমার মনও ভরে গেল। 

 

20170306_154117

 

মিজুকি, ইয়োশুকা আর কাহোর হাতে বল ।

 

20170306_160253

 

হিতোহা আর মাআসার হাতে বল। শারীর শিক্ষার ছাত্রছাত্রীরা ভারি মিষ্টি। কতগুলো বল এনে এদের হাতে দিয়েছে। 

20170306_160224

কাহোর বল বাস্কেটে গিয়ে পড়েছিল কিনা আজ আর মনে নেই। 

20170306_160245

ছেলেদের মধ্যে শুমইয়া খুব জনপ্রিয় হয়ে গেছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে। এখানে মার্শাল আর্টের কিছু প্যাঁচ দেখাচ্ছে নিশ্চয়ই। 

20170306_160403

ইন্ডিয়া আর জাপানের বাস্কেটবল খেলা হল। জাপান জিতল।  দু দলই এই হঠাৎ ম্যাচে খুব খুশি। 

20170306_161636


জাপানি ছাত্রছাত্রীদের বাংলা ক্লাসের শেষ দিন

আজ আমাদের জাপানি ছাত্রছাত্রীদের বাংলা ক্লাস শেষ হল। প্রোগ্রাম হেড মহীদাসবাবু ওদের সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা, টিচাররা সামনে বসলুম। একে একে সব শিক্ষকরা বক্তৃতা দিলেন, তারপর ছাত্রছাত্রীরাও বক্তৃতা দিল। ইউকা কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলল। ইওশিকার চোখ দিয়েও ঝরঝর করে জল পড়তে লাগল। ওদের মন খারাপ হয়ে গেছে। সেই দেখাদেখি আমিও চশমার মধ্যে আমার ওড়নাটা ঢুকিয়ে দিয়ে চোখ মোছার চেষ্টা করলাম। পাশে শাস্বত ভীষণ সেজেগুজে এসে বসে ছিল ( ও একজন শিক্ষক), আমাকে কনুইয়ের গুঁতো মেরে বলল,' মন্দিরাদি, কাঁদবেন না প্লিজ। কান্না কিন্তু ভীষণ ছোঁয়াচে । ' কান্নাকাটি শেষ করে আমরা মিষ্টি আর ফলের রস খেলাম। ওরা আমাদের অপূর্ব সব কার্ড দিল। সেই কার্ডে কী যে সব সুন্দর করে আমাদের সম্বন্ধে লেখা, গর্বে আমি আর দুই ইঞ্চি লম্বা হয়ে গেলাম। পঁচিশ বছর ধরে বাংলা পড়াচ্ছি। কাঁদার কী আছে ? মানুষ আজকাল দূরে হারিয়ে যেতে না চাইলে যেতে পারে না। সবাই ইমেলের দূরত্বে থাকে, থাকে ফেসবুকে। তাহলে বোধহয় সেই বস্তাপচা আইডিয়াটাই সত্যি। বাংলার ভিজে বাতাসে , ভিজে মাটিতে চোখের জল সহজেই আসে। ।

 

20170306_151738

 

 

20170306_161636

 

20170310_151116_001

 

20170310_151142