« Little Magazine Library | Main | SASLI 2ND Year: Journal 5 Tanjina Shabu:“আমি, বর্ষা আর.....কদমফুল।” »

August 06, 2007

Comments

Tanjina

ব্রায়ান ভাই সাহেব,
তোমার শেষ জার্নাল পড়ে আমার খুব হাসি পেয়েছে। তুমি এত পাগল!! কি পাগলামো পরিকল্পনা!! তোমার ভারত ভ্রমণ নিশ্চয় খুব মজার হবে। তুমি কলকাতা এবং গ্রামের মানুষদের সঙ্গে যে খুব ভালো করে মিশতে পারবে তাতে কোন ভূল ধারণা নেই। তুমি অনেকগুলো প্রশ্ন করেছ তোমার জার্নালে তার মধে্য কয়েকটার নিজের মত আমি জানাচ্ছি।
বড় প্রশ্ন ১। সত‍্যজিৎ রায়ের সব ছবির মধে‍্য, কোন ছবি সবচেয়ে ভালো?- সবগুলো...সত্যজিত রায় ফিল্মের গুরু
বড় প্রশ্ন ২। সব বাঙালী অভিনেতার মধে‍্য, কে সবচেয়ে সুন্দর?- শাহরুখ খান... ঠিক আছে ঠাট্টা করছি!! ..সোমিত্ত্র চট্টোপাধ্যায় শাহরুখ খান থেকে একটু দেখতে সুন্দর, এমনকি সাদা- কালো ছবিতে ও সোমিত্ত্রকে ভালো লাগে, রঙ্গিন ছবিতে না জানি কেমন লাগবে??
বড় প্রশ্ন ৩। অাসল সৌন্দর্য কি? -- প্রকৃতি।
তোমার এই বাকে্র কোন মানে আমি বুঝলাম না- “কিন্তু ভারত অামার নতুন সংসার অার স্বামী নেই (সাহরুখ ছাড়া। ” শাহরুখ খানকে তুমি স্বামী বলছো কেন?? আমার এই বাক্যটা একটু অদ্ভুত মনে হল। শাহরুখ খান কি এখন তোমাকে বিয়ে করেছে নাকি?? ছি...ছি... কি অবস্থা!!
আমার খুব কৌতূহল হচ্ছে - তুমি গ্রামে গেলে বাঊলদের সাথে দেখা হলে কি গান করবে?? বাউলদের সাথে দেখা হলে তুমি ছবি তুলে আমাদের দয়া করে পাঠাবে। তোমার নিশ্চয় খুব আনন্দ হচ্ছে যে এবারের শরৎকালে তুমি আবার দূর্গা পূজোতে অংশ নিতে পারবে, তোমার পুরোনো কলকাতার বন্ধুদের সাথে দেখা হবে, তাই না?? তোমার মুর্শিদাবাদে ও হয়তবা অনেক বন্ধু হবে যাদের তুমি এখনো চিনো না, সেখানে গেলে অবশ্যই ভালো লোকের সাথে পরিচয় হবে। তোমার যে নতুন জায়গাতে যেতে ভয় করছে সেটা আমারো করেছিল যখন প্রথম আমি কলেজে আসি। আমি এখানে একটা মানুষকেও চিনতাম না। আর আটলান্টা থেকে মা বাবাকে ছেড়ে একা প্রথমবারের মত এই শীতের দেশে এসে আমার খুব খারাপ লাগে। আমি জানি, তুমি অনেক দেশ ঘুরেছ, তোমার জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা আছে, তারপরেও হয়তbবা এবারের অভিজ্ঞতা আগেরগুলো থেকে একটু আলাদা হবে। হয়তবা প্রিয় মানুষ, মা-বাবার জন্য, এখানকার বন্ধুদের জন্য হঠাৎ মন কেমন কেমন করবে, ঠিক না? কিন্তু ভালো খবর হলো যে, তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গার ঝালমুড়ি খেতে পারবে !! ওখানে হয়তবা জীবনের মানে আর চকলেটের বাক্স থাকবে না, কিন্তু ঝালমুড়ির ভিতরের সব মুড়ি, চানাচুর, নারিকেল আর মশলাগুলো হবে তোমার আসল জীবনের মানে।
তোমার জার্নালে আরেকদিন লিখেছিলাম এই সম্পর্কে যে, একজন বাঙ্গালীর সম্পূর্ণ অ্যামেরিকান হওয়া সম্ভব না। তেমনি তুমিও যত চেষ্টা করো, তুমি সম্পুর্ণ বাঙ্গালী হবে না, কিন্তু একজন অ্যামেরিকান হিসেবে বাঙ্গালীদের কাছ থেকে অনেক সম্মান, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা পেতে পারবে। এই সম্মান এবং শ্রদ্ধা হয়তবা সকলে পায় না বাঙ্গালীদের কাছ থেকে। কারনটা তুমি নিজেই জানো এবং মনে কর যে আমাদের মনে এক ধরণের ‘stereotype’ ধারণা আছে। সতি্য কথা বলতে, সকল বাঙ্গালী লোক এক রকম না, আমরা অনেক সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে চাই, কিন্তু অন্যান্য স্ংস্কৃতিতে এটা একটু অদ্ভূত বলে আমাদের ‘stereotype’ ধারণা আমাদের খারাপ করতে বাধ্য করে। এই বাক্যটা একটু বেশি লম্বা হয়ে গেল...আগামীকাল বুঝিয়ে বলব
ওখানে হ্য়তবা তোমার ইন্টারনেট এবং কমিঊনিকেশন ব্যবস্থা খারাপ থাকবে। তারপরেও আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করবে। আমিও হয়তবা পড়ালেখার মাঝে একটু-আধটু তোমাদের লিখব এবং তোমাদের সবাইকে যখন বেশি মনে পড়বে তখন হয়তবা বড় বড় চিঠি লিখে তোমাদের বিরক্ত করবো। তোমরা সবাই তখন রেগে যাবে এবং রাগের চোটে কান্না আসবে যে আমি কেন এত বিরক্ত করি, তাই না??
ওহ ভালো কথা... যদি তুমি রাণীর বাড়ির ভেতর পর্যন্ত জীবিত হয়ে যেতে পারো, তাহলে তোমার শ্বশুর- শ্বাশুড়ি মানে রাণীর মা- বাবাকে আমাদের প্রণাম জানাবে। আবার যখন আমেরিকায় আসবে তখন তোমার কল্পনার স্ত্রী, রাণী মুখার্জিকে সাথে করে নিয়ে আসবে।

অনেক লিখে ফেলেছি। আমি আজ এখানেই শেষ করছি, উল্টা-পালটা অনেক কিছু লিখেছি, দয়া করে কিছু মনে করো না।
ইতি,
তোমার পাগল ছোট বোন~ তানজিনা

The comments to this entry are closed.